জানতাম না মানুষটা মহিলা না পুরুষ। শীতের রাত অনেক কঠিন।

না ভিডিও করি নাই, ছবি ও তুলি নাই। বিবেকে লাগলো।  চেয়েছিলাম একটা কম্বল অথবা কাঁথা দিবো কিন্তু বাসায় অতিরিক্ত ছিল না। 


রাত বারটা অথবা তার আশে পাশে,  দিনের বেলা পড়ে পড়ে গুমাই আর সন্ধ্যার দিকে উঠি।  আমার নিয়মিত জীবন যাপন।  বের হয়ে গিয়েছিলাম হাঁটতে আর যদি দোকান খোলা পাই তাহলে বাচ্চার জন্য বাকরখানি নিবো। আমার ২ বছর ২ মাসের মেয়ে বাকরখানি পেলে ওর আর কিছুই লাগে না। মনে হয় সমস্ত পৃথিবীটা এক দিকে দিলে আর বাকরখানি এক দিকে রাখলে ও বাকরখানির জন্য লাফ মেরে পড়বে। 


আধাঘন্টা এর বেশী হাঁটলাম, বাকরখানি-ও পেয়ে গেলাম।  বিল্ডিং-এ ঢুকবো দেখি গেটের পাশেই একটা লোক শুয়ে আছে একটা প্লাস্টিকের চালের বস্তা মনে হলো কোনো রকম গায়ে লাগিয়ে আছে. কাঁপছে ঠান্ডায়। কুচি মুচি মেরে কোনো রকম মনে হয় সহ্য করছে। বিল্ডিং প্রায় ঢুকেই গেছি হঠাৎ মনে হলো একটু দেখি , হঠাৎ মনটা কেঁপে উঠলো।  দারোয়ানদের (আনসার বাহিনী আমাদের বিডিং এর দারোয়ানের দায়িত্বে আছেন) বললাম এই লোকটা কখন থেকে এখানে শুয়ে আছে। ওরা বললো, কৈ ? বললাম এদিকে আসেন , নিয়ে বের হলাম এবং গেটের সাথেই দেখালাম।  বললো জানি না ভাই , আমরা কিই বা করতে পারি। আরো বললো মন খারাপ হয় কিছু করতে না পেরে। 


কিছু বললাম না।  লিফটে উঠে গেলাম।  মনে মনে বললাম একটা কাঁথা বা কম্বল থাকলেই হলো বাসায় আর না থাকলে কিছু কাপড় অন্তত দেয়া যায়।  বউকে বললাম বেপারটা। কোনো কম্বল বা কাঁথা ছিল না দেয়ার মতো।  আমাদের বাসায় বেশি অতিরিক্ত জিনিস দিয়ে দেয়া হয় গরীব পরিচিত মানুষ আসলে।  বউ বললো ওর কাছে জাম্পার আছে। বললাম দাও।  আমি আমার এক জোড়া মোজা নিলাম আর দুইটা টিশার্ট নিলাম।  জাম্পার বের করে বউ বলল, "তোমার কিছু পেন্ট আছে অনেক দিন ব্যবহার করো না, দিবো?" বললাম দাও।  দুইটা পেন্ট ও হলো। 


সব নিয়ে লিফটে উঠলাম।  গ্রাউন্ড ফ্লোরে গেলে গেট খুলে দিলো দারোয়ানরা। আমার সাথে তাঁরাও বের হলো। 


কাছে গিয়ে বললাম, "এই উঠেন এইটা পড়েন (মোজা)", তাকালো মাথাটা অল্প তুলে।  বললো, "রাইখা দেন। ", বুজলাম উনি মহিলা।  বললাম, "ঠিক আছে, এখানে একটা জাম্পার, দুইটা গেঞ্জি, দুইটা পেন্ট আর এই মোজা আছে। পড়ে নিয়েন।" পাশে রেখেই চলে আসলাম।  দারোয়ান ভাইদের বললাম আমি মনে করেছিলাম ছেলে।  যাই হউক অন্তত কাপড় গুলো একটু কাজে লাগবে। দারোয়ানদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লিফটে উঠলাম, বাসায় চলে আসলাম। 


বউকে বললাম ঐটা মহিলা , বলল আল্লা ! টি-শার্ট পেন্ট পড়বে কেমনে? বললাম কি পড়লো ঐটা কি তার দেখার মতো অবস্থা আছে। কাপড় গুলোই যে অনেক এখন তার জন্য।  বলল তাহলে আমার কিছু দিয়ে আসো।  বললাম থাক, ওর যা দরকার তা হয়তো হয়ে গেছে।  অন্য কাউকে দেওয়া যাবে। 


মনটা ভালোও হলোনা তেমন আবার খারাপ ও লাগলো না আর। 


আমরা অনেক কিছুই দেখি না, এসব দেখতে দেখতে এতো অভস্ত হয়ে গেছি যে মনও তেমন কাঁদে না। শুধু হঠাৎ কোনো সময়ে কেঁদে উঠে।  আশা করি এই হঠাৎ কেঁদে উঠাটা সবার অভ্যাশ হয়ে উঠুক। 


ধন্যবাদ পড়ার জন্য।  


অনুভূতি শেয়ার করতে চাইলে দয়া করে নির্ধিদায় করুন। হয়তো সবার মনটা একটু নরম হবে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জানতাম না মানুষটা মহিলা না পুরুষ। শীতের রাত অনেক কঠিন।

by Masudul Kabir Time to read: <1 min
0
Copy link
Powered by Social Snap